মেহেরপুরে কোরবানির জন্য এবার দুই লাখ পশু প্রস্তুত

গাংনীর চোখগাংনীর চোখ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:14 AM, 20 June 2023

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে মেহেরপুরের খামারগুলোতে প্রায় দুই লাখ পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুপালনকারী ও খামারীরা। প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিরা। আমার গুলোতে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন জেলা থেকে পশু ব্যবসায়ীরা। জেলায় সাধারনত প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। তাই এই এলাকার পশুর চাহিদা দেশ জুড়ে।

বিশেষ করে মেহেরপুরে খ্যাতি রয়েছে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশি গরুর। জেলায় পশু খামার ছাড়াও প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পারিবারিকভাবে পালন হয়ে থাকে। তৃণমূল অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় ভূমিকা রাখে এই পশুপালন। তবে সংশয় রয়েছে ভারতীয় গরু আসার। এবার যদি সীমানা কাঁটাতার পেরিয়ে যদি ভারতের গরু না আসে তাহলে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছেন পশু পালনকারী ও খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী কোরবানি ঈদের জন্য জেলায় ৩৫০ টি বাণিজ্যিক খামার ও ২৮ হাজার পারিবারিক খাবার থেকে কোরবানির প্রস্তুতির জন্য এক লাখ ৯০ হাজার পাঁচ শত ২০টি প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছেন ৯০ হাজার। বাকি ১ লক্ষ ৫২০ টি যাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এই জেলার গরু সাধারনত দেশীয় জাতের।

বছর জুড়ে দেশীয় এই গরুর চাহিদার পাশাপাশি দামও থাকে ভাল। তাই এবার গরু বিক্রি করে অধিক লাভের আশা করছে খামারীরা। গরু পালনকারীরা বলছেন, প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। কোন রকম ক্ষতিকর ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়নি। সম্পুর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার উৎস এগ্রো ফার্মের নারী উদ্যোক্তা হাবিবা পারভীন জানান, তার ফর্মে এবার কোরবানীর জন্য ৮০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লক্ষ টাকা থেকে তিন লক্ষ টাকায় বিক্রিযোগ্য গরু রয়েছে। যেখান থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার গরু বিক্রির আশা করছেন তিনি। সম্পুর্ন দেশীয় খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিবছরই পারিবারিকভাবে দুই তিনটা গরু পুষে থাকেন। এবারও তার দুটি গরু কোরবানিতে বিক্রি করবেন। এক বছর আগে তিনি দুইটি গরু এক লক্ষ টাকায় কিনে পালন করেছেন। তিনি আশা করছেন আড়ায় লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে গরু দুটি।

মেহেরপুর প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান জানান, জেলায় এবার পর্যাপ্ত কোরবানীর পশু আছে যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় বিক্রি করতে পারবে খামারীরা। কোরবানীর পশু সুন্দর ভাবে বিক্রির জন্য যাতে হাটে তুলতে পারে তার জন্য প্রানী সম্পদ অফিস থেকে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারীরা যাতে তাদের পশু হাটে বিক্রি করতে গিয়ে কোন হয়রানীর স্বীকার না হয় তার জন্য একটি পুলিশ প্রশাসনসহ নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং পশুরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসক থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :