মেহেরপুরে বোতলজাত সয়াবিনের বোতল কেটে বেশি দামে বিক্রি, প্রশাসন নীরব

মেহেরপুরে বোতলজাত সয়াবিনের বোতল কেটে বেশি দামে বিক্রি, প্রশাসন নীরব

শেয়ার করুন

অধিক লাভের আশায় বোতলজাত তেলের বোতলের মুখ খুলে খোলা আকারে বিক্রি করে ব্যবসায়ী লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ। বোতলজাত তেল খুচরা মূল্যের বেশি বিক্রি করতে না পেরে এই কৌশল অবলম্বন করেছে অসাধু ব্যবসায়ী। ভাঙ্গারি দোকানে মিলছে ৫ লিটারের তীর সয়াবিন তেলের ৫ শতাধিক খালি বোতল। বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। তবুও এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না থাকায় সমালোচনার মুখে গাংনী উপজেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টা শুনলাম এখন যা করনীয় তা আমরা বুঝবো, নিত্য পণ্যের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনেক হিসেব নিকেশ করতে হয়। এ জন্য অনেক সময় অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, শনিবার (৩০এপ্রিল) দুপুরে চৌগাছার ভাংড়ি ব্যবসায়ী তকিরুল ইসলামের দোকানে ৭৭০ পিস তেলের সয়াবিন তেলের বোতলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তীর সয়াবিনের প্রতিটি বোতলই ৫টি লিটার।

বোতল ক্রেতা কুলবাড়ীয়া গ্রামের আনিছুর রহমান জানান, তেল ব্যবসায়ী চৌগাছা গ্রামের দোয়াত আলীর কাছ থেকে বোতলগুলো কেনা হয়। দোয়াত আলী সয়াবিনের বোতল খুলে লুজ তেল হিসেবে বিক্রি করছে। এখানে যতো খালি বোতল বের হয় তা আমি ৫টা পিস হিসেবে কিনে থাকি।

অভিযোগে জানা গেছে, দোয়াত আলী ব্যারেল সয়াবিন তেলের একজন বড় ব্যবসায়ী। ব্যারেল তেলের দর বেশি হওয়ায় তিনি বোতল তেল মজুদ করেন বেশ আগে থেকেই। এই বোতলগুলো খুলে লুজ হিসেবে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন। যার প্রভাব পড়ছে খোলা বাজারে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি ৫ লিটার বোতলে ৩০০ টাকা বাড়তি লাভ করছে দোয়াত আলী।

জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার পর্যন্ত বোতলজাত সয়াবিন তেলের চরম আকাল। দু’য়েকটি দোকানে কিছু বোতল পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা লিটার। আর খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দর আরও বেশি। প্রতি কেজির দাম ২০০-২২০ টাকা পর্যন্ত।

অথচ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ১৬০ টাকা হলেও দোকানী বিক্রি করছে ১৮০ টাকায়। অপরদিকে লুজ তেলের দর ১৩৬ টাকা লিটার। গেল ২১ মার্চ এ দর নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যার কোন বাস্তবায়নই মাঠ পর্যায়ে নেই।

গাংনী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলার পয়েন্ট থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ নেই। অপরদিকে লুজ তেল কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। শনিবার (৩০ এপ্রিল) লুজ সয়াবিন পাইকারী মূল্য ১৯৬ টাকা কেজি।’

তেল সরবরাহ কেন করা হচ্ছে না জানতে জানতে চাইলে বসুন্ধরা সয়াবিন তেল গাংনী উপজেলা পরিবেশক সেলিম রেজা বলেন, ‘কোম্পানী থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। কোম্পানী তেল না দিলে পরিবেশকরা কোথায় পাবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম বলেন, ‘নিত্য পণ্যের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনেক হিসেব নিকেশ করতে হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয় এ জন্য অনেক সময় অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।’

গাংনী উপজেলা