মুজিবনগরে বিদ্যালয় থেকে স্কুল ছাত্রকে তুলে নিয়ে শূন্যে ঝুলিয়ে আছাড়, থানায় লিখিত অভিযোগ

গাংনীর চোখগাংনীর চোখ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:21 PM, 30 May 2024

শরীরের ফুটবল লাগাকে কেন্দ্র করে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী কে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শুন্যের ঝুলিয়ে আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিবুল ইসলাম(৩২) নামের একজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের। ওই শিক্ষার্থীর নাম রিজন(০৮)। রিজন মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের মিরাজুল শেখের ছেলে ও একই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

স্থানীয়রা ও রিজনের সহপাঠিরা জানায়, গত মঙ্গলবার বিকালে রিজন মাঠে ফুটবল খেলছিলো। এসময় রিজনের বল একই গ্রামের মহিবুলের ছেলে শাফিন(৮) এর গায়ে লাগে। এরপর গতকাল বুধবার দুপুরে শাফিনের বাবা ও বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোবারক আলীর ভাগ্নে মহিবুল বিশ্বনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস রুম থেকে রিজনকে বের করে নিয়ে দু পা ধরে ছুড়ে আছার মারে । পরে তাকে দু পা ধরে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় চড়াতে থাকে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন খাতুন তাকে উদ্ধার করে। রিজনের পরিবার খবর পেয়ে তাকে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তি করে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র সোহান ও তামিম বলেন, রিজন আমাদের সাথে বসে ছিলো। ঐ ভয়ংকর লোকটা এসে তাকে একটানে বের করে নিয়ে দুপা ধরে শুন্যে তুলে ফেলে ছুরে ঘরের বাইরে ফেলে দেয়। এরপর আবার তার পা ধরে বিদ্যালয়ের সারা মাঠ ছেচরিয়ে নিয়ে বেরায়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোবারক আলী বলেন, ঘটনাটা সামাজিক ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে থানা থেকে এ বিষয়ে ফোন দিয়েছিলো আমারা কোন বক্তব্য দিইনি। তাই শাফিনের আত্মিয়স্বজন আমাকে বিদ্যালয়ে এসে শাসিছে। শাসনের বিষয়টি আমি মুজিবনগর থানা, মেহেরপুর পুলিশ সুপার সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিদ্যালয়ের শহকারী শিক্ষক( ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক) শরিফুল ইসলাম বলেন, টিফিনের সময় রিজনকে ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে কি করেছে আমি জানিনা। সে সময় আমি অন্য ক্লাসে ছিলাম। বিষয়টি স্কুল কমিটিকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মর্জিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয় থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এখানে আমার মেয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে হট্টগোলোর খবর শুনে আমি এসেছি। এর বেশী কিছু আমি জানিনা।
মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুপ্রিয়া গুপ্ত বলেন, রিজনের শরিরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কোখাও কোথাও থেতলিয়ে গিয়েছে। তবে সে এখন আশংকা মুক্ত ।

মুজিবনগর থানার ওসি উজ্জল কুমার বলেন, রিজনের পরিবার একটি মুজিবনগর থানায় একটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মহিবুল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :